সেপিয়েন্স বইয়ের পর্যালোচনা তথা বুক রিভিউ ০২

সেপিয়েন্স বইয়ের পর্যালোচনা তথা বুক রিভিউ ০২

ইউভাল নোয়া হারারি রচিত সেপিয়েন্স (মানুষের ইতিহাস) বইয়ের অধ্যায় আছে মোট ২০টি। আমি দ্বিতীয় অধ্যায়ের কিছু বক্তব্য তুলে ধরছি। এভাবে পরবর্তী অধ্যায়গুলোর বক্তব্য তুলে ধরব এবং শেষে আলোচনা করব।

অধ্যায় ২ – জ্ঞানবৃক্ষের বেড়ে ওঠা।

১। সেপিয়েন্স বানরের চেয়ে অনেক বেশি ধরনের ধ্বনিসংকেত তৈরি করতে পারে। অনেক রকম ধনী তৈরীর ক্ষমতা কে বাদ দিলে কি সেই বিষয়ের বিষয় যার জন্য আমাদের ভাষা এতটা গুরুত্বপূর্ণ? এতটা কার্যকর?

আমরা মানুষেরা কিছু সীমিতসংখ্যক ধনী এবং প্রতীককে বিভিন্নভাবে জোড়া লাগিয়ে অসীমসংখ্যক বাক্য তৈরি হতে পারে যে বাক্যগুলো প্রত্যেকে ভিন্ন ভিন্ন অর্থ বহন করে।

২। আড্ডা, খুনসুটি বা পরচর্চা করার জন্যই সেপিয়েন্সদের ভাষার বিকাশ ঘটেছে। এরকম একটি তত্ত্বকে আমরা ‘পরচর্চা তত্ত্ব’ (gossip theory) নামে ডাকতে পারি।

৩। আমরা যতদূর জানি, সেপিয়েন্সই একমাত্র প্রাণী, যারা যেসব জিনিস কখনো চোখে দেখেনি, স্পর্শ করেনি কিংবা ঘ্রাণ নেয়নি সেসব নিয়েও অন্যদের সঙ্গে গল্প করতে পারে।

৪। সমাজবিজ্ঞানভিত্তিক গবেষণাগুলো থেকে দেখা যায়, একে অন্যের সমালোচনা বা পরচর্চার মাধ্যমে সর্বোচ্চ ১৫০ জনের একটা দল গঠন করা যেতে পারে, এর বেশি নয়।

৫। সেপিয়েন্সরা কীভাবে এই ১৫০ জনের সীমা অতিক্রম করে হাজার হাজার সদস্যের সমন্বয়ে গড়ে তুলল নগর বা লাখ লাখ সদস্যের সমন্বয়ে গড়ে তুলল সাম্রাজ্য? কল্পনা বা গল্পের উদ্ভবই সম্ভবত এ রহস্যের সমাধান। একটি লোককথা বা পুরাকাহিনীতে, বিশ্বাস করার মাধ্যমে বিপুল পরিমাণ লোক গোষ্ঠীবদ্ধ হয়ে বসবাস করার ক্ষমতা অর্জন করে ফেলে।

৬। মানুষের গল্প বানানোর ক্ষমতা আছে, মানুষ গল্প শুনতে এবং নানান লোক নানা রকম গল্প বিশ্বাস করতে ভালোবাসে।

কারও (বাংলা বা ইংরেজি) কাগজের বই অথবা পিডিএফ দরকার হলে কমেন্ট করতে পারেন। ভালো থাকবেন।

Leave a Reply