সেপিয়েন্স বইয়ের পর্যালোচনা তথা বুক রিভিউ ০১

সেপিয়েন্স বইয়ের পর্যালোচনা তথা বুক রিভিউ ০১

ইউভাল নোয়া হারারি রচিত সেপিয়েন্স (মানুষের ইতিহাস) বইয়ের অধ্যায় আছে মোট ২০টি। আমি প্রথম অধ্যায়ের কিছু বক্তব্য তুলে ধরছি। এভাবে পরবর্তী অধ্যায়গুলোর বক্তব্য তুলে ধরব এবং শেষে আলোচনা করব।

অধ্যায় ১ – নিতান্ত সাধারণ একটি প্রাণীর গল্প।

১। আজ থেকে প্রায় সাড়ে ১৩০০ কোটি বছর আগে বিগ ব্যাং নামে পরিচিত এক মহাবিস্ফোরণের মধ্য দিয়ে সৃষ্টি হয় পদার্থের, উৎপত্তি লাভ করে শক্তি, সূচনা ঘটে সময়ের আর রচিত হয় মহাশূন্য।

২। বাস্তবতা হলো, ২০ লাখ বছর আগে থেকে শুরু করে ১০ হাজার বছর আগেও পৃথিবী ছিল মানুষের অনেকগুলো প্রজাতির বাসভূমি। কেন নয়? আজকের পৃথিবীতে একই সময়ে অনেক প্রজাতির শিয়াল, ভালুক আর শূকর বসবাস করছে। একইভাবে 1 লাখ বছর আগের পৃথিবীতে একই সঙ্গে মানুষের অন্তত ছয়টি প্রজাতি হেঁটে বেড়িয়েছে, বসবাস করেছে পৃথিবীর বুকে।

৩। এক কথায় বলতে গেলে, ‘যত মাথা যত ব্যথা’। অর্থাৎ বড় আকারের মগজ শুধু নিরবিচ্ছিন্ন সুবিধাই দেয় না, সঙ্গে সঙ্গে নানা রকম সমস্যা ও সংকটের সৃষ্টি করে। বড় মগজের কাজ করার জন্য বেশি শক্তি দরকার, যেটা আসে খাদ্য থেকে। আধুনিক মানুষের মস্তিষ্ক দেহের মোট ওজনের দুই-তৃতীয়াংশ, কিন্তু মানুষ যখন বিশ্রামে থাকে, তখন দেহের মোট শক্তির শতকরা ২৫ ভাগ শুধু মস্তিষ্ককে সচল রাখার জন্যই ব্যয় হয়।

৪। প্রাচীনকালে মানুষের এই বড় আকারের মগজ এর মাশুল কিভাবে দিতে হয়েছে। প্রথমত, বড় মস্তিষ্কের জন্য খাদ্যের চাহিদা বেড়ে যাওয়ায় তাদের খাদ্য খোঁজার জন্য অনেক বেশি সময় ব্যয় করতে হয়েছে। দ্বিতীয়ত, মস্তিষ্কের বড় হওয়াকে প্রাধান্য দিতে গিয়ে তাদের পেশির ক্ষয় হয়েছে, শারীরিক সামর্থ্য কমে এসেছে। সরকার যেমন সামরিক খাত থেকে বাজেট কমিয়ে শিক্ষা খাতে দেয়, তেমনি মানুষও পেশীকে শক্তিশালী না করে নিউরনকে পুষ্ট করেছে।

৫। বিবর্তনের নিয়ম অনুযায়ী যেহেতু মানুষের বড় মস্তিষ্ক টিকে থাকার ক্ষেত্রে তাদেরকে তেমন কোন সুবিধা দেয় নি সেতু মগজ বড় হওয়ার বৈশিষ্ট্য প্রজন্ম থেকে প্রজন্মে সরানোর ও বিকাশ লাভ করার কথা নয়। কিন্তু আশ্চর্যজনক ভাবে শতাব্দীর পর শতাব্দী ধরে সেটাই হয়ে এসেছে। কেন? এ প্রশ্নের উত্তর আমরা এখনো জানি না।

৬। যার হাত যত বেশি দক্ষ, সমাজে তার টিকে থাকার সম্ভাবনা তত বেশি।

৭। বহু বিজ্ঞানী বলে থাকেন যে, মানুষ এবং অন্যান্য প্রাণীর মধ্যে প্রথম যে বড় রকম পার্থক্য তৈরী হয়, সেটা আগুনের কারণেই। আগুনকে আয়ত্তে এনে মানুষ অন্যান্য প্রাণী থেকে নিজেদেরকে উঁচু পর্যায়ে উপনীত করেছে।

৮। বস্তুত আগুনকে আয়ত্তে আনাটা ছিল মানুষের ভবিষ্যৎকে নিয়ন্ত্রণ করার  একটা পূর্বাভাস মাত্র।

৯। সেপিয়েন্স দায়ী হোক বা না হোক, এটা দেখা গেছে যে তারা যখনই কোনো নতুন জায়গায় পৌঁছেছে তখন সেখানকার আদিবাসী জনগোষ্ঠী নিশ্চিহ্ন হয়ে গেছে।

১০। সেপিয়েন্সদের এই বিপুল সাফল্যের রহস্য কী ছিল? কীভাবে মানুষ এত দ্রুত পৃথিবীতে ছড়িয়ে পড়ল? কীভাবে এতরকম ভিন্ন পরিবেশে টিকে থাকল তারা? এসব প্রশ্নের একটা সম্ভাব্য উত্তর হতে পারে ভাষা। ভাষার মতো অনন্যসাধারণ একটি বৈশিষ্ট্যই সেপিয়েন্সদের সাহায্য করেছে পৃথিবী জয় করতে।

কারও (বাংলা বা ইংরেজি) কাগজের বই অথবা পিডিএফ দরকার হলে কমেন্ট করতে পারেন। ভালো থাকবেন।

This Post Has 2 Comments

  1. মোখলেছ মিয়া

    রিভিউটি পড়ে সম্পূর্ণটাই পড়ার আরেকটি ইচ্ছা জেগেছে
    যদি বাংলা ভার্শন পিডিএফ থাকে তো দেওয়ার অনুরোধ রইল

    1. Fazle Rabbi

      মোখলেছ ভাই, আপনাকে ইমেইল পাঠিয়েছি।

Leave a Reply