সাকসেসফুল বিজনেস টুলস ০১

সাকসেসফুল বিজনেস টুলস ০১

আপনি কি আপনার লক্ষ্য পূরণ করতে পারছেন না? কেন? কারণ আপনার লক্ষ্য স্মার্ট লক্ষ্য নয়। স্মার্ট লক্ষ্য কী? স্মার্ট লক্ষ্য হচ্ছে আপনার স্বপ্ন পূরণ করার উপায়। কীভাবে স্মার্ট লক্ষ্য নিবেন? তা নিয়ে আলাপ করব। এ এক ধারাবাহিক রচনা। আপনি যাতে আপনার ব্যবসায় সফল হতে পারেন, আপনার লক্ষ্য পূরণ করতে পারেন, সেই জন্য আমি (ফজলে রাব্বি) ১০০টি সাকসেসফুল বিজনেস টুলস বা ব্যবসায় সফল হতে প্রয়োজনীয় উপকরণ নিয়ে আলোচনা করব।

লক্ষ্য অর্জনে প্রবৃদ্ধি মডেল

বেশির ভাগ মানুষ তাদের লক্ষ্য পূরণ করতে পারে না, কারণ তারা লক্ষ্য নিয়ে ঠিকমতো পরিকল্পনা করে না এবং নিজের ক্ষমতার ওপর পুরোপুরি বিশ্বাস করে না। কিন্তু যারা বিজয়ী তারা জানে ঠিক কোথায় পৌঁছাতে চায় এবং কীভাবে পৌঁছাতে চায়। – ডেনিস ওয়েটলি (আমেরিকান মোটিভেটর ও লেখক)

আমরা যে মডেল নিয়ে আলোচনা করব তা হচ্ছে প্রবৃদ্ধি মডেল। একে ইংরেজিতে গ্রো মডেল (Grow Model) বলে। একে উন্নত করেছেন স্যার জন হোয়াইটমোর। তিনি এ মডেলকে বাস্তব জীবনে কাজে লাগানোর জন্য নির্দিষ্ট কাঠামো ও গঠন তৈরি করেন। প্রবৃদ্ধি মডেলের চারটি ধাপ রয়েছে: লক্ষ্য, বাস্তবতা, সুযোগ-সুবিধা এবং সামনে এগিয়ে যাওয়ার উপায়। আর বাকি কাজ যে প্রশিক্ষণ গ্রহণ করে তার ওপর নির্ভর করে। এখানে একজন মেনটর (বিজ্ঞ পরামর্শ দ্বারা যিনি প্রশিক্ষণ দেন) শিক্ষার্থীকে কোনো নির্দিষ্ট পথ দেখান না; বরং শিক্ষার্থীকে নিজের লক্ষ্য নির্ধারণ ও চ্যালেঞ্জ অতিক্রম করতে সহায়তা করেন।

লক্ষ্য
এ পর্যায়ের মূল উদ্দেশ্য হচ্ছে শিক্ষার্থীর লক্ষ্য এবং তার অগ্রাধিকারগুলোর ওপর গুরুত্ব আরোপ করা। মেনটরের দায়িত্ব হচ্ছে সহজভাবে আচরণ করা, বিভিন্ন দিক খুঁজে দেখা, শিক্ষার্থীকে নানা প্রশ্ন করা এবং চ্যালেঞ্জগুলোকে দেখিয়ে দেওয়া। এর জন্য দরকার বিভিন্ন প্রশ্ন করা এবং শিক্ষার্থীর প্রতি সহানুভূতিশীল হওয়া। প্রথম কাজ হচ্ছে একটি নির্দিষ্ট সময়ের জন্য একগুচ্ছ লক্ষ্য নির্দিষ্ট করা এবং মেনটর ও শিক্ষার্থীর মধ্যে সম্পর্কের অগ্রগতি ঘটান।
প্রশ্ন হতে পারে:

 আপনার লক্ষ্য কী?
 আপনার অগ্রাধিকারের জায়গাগুলো কী কী?
 আপনি কী অর্জন করতে চাচ্ছেন?
 এ লক্ষ্য অর্জন হয়ে গেল কিনা তা আপনি কীভাবে জানবেন?
 এ লক্ষ্য কি নির্দিষ্ট এবং একে কি পরিমাপ করা যায়?
 লক্ষ্য অর্জন হয়ে গেলে আপনি তা কীভাবে বুঝবেন?
 লক্ষ্য অর্জিত হলে, সাফল্যের সেই মুর্হূত দেখতে কেমন হবে?

বাস্তবতা
শিক্ষার্থীর বর্তমান অবস্থা খুঁজে বের করুন: তাদের বর্তমান অবস্থা এবং তাদের লক্ষ্য ও তাদের মাঝে বিদ্যমান বাস্তব অবস্থা তুলে ধরুন। এখানে মেনটর শিক্ষার্থীকে সহায়তা করবেন। শিক্ষার্থীর অবস্থা বিশ্লেষণে, তার লক্ষ্য ও তার বর্তমান অবস্থা এবং নানা সুবিধা-অসুবিধা নিয়ে বিচারবিশ্লেষণ করবেন। এখানে মেনটর সুকৌশলী কিছু প্রশ্ন করে অবস্থাকে বিচারবিশ্লেষণ করবেন। মেনটর অবস্থার সাথে সম্পৃক্ত কিছু তথ্যও দিতে পারেন। তারপর বর্তমান অবস্থাকে পরিষ্কার ও স্পষ্ট করে সংক্ষিপ্ত বক্তব্য তুলে ধরবেন।
প্রশ্ন হতে পারে:

 আপনি কি ফলাফলকে নিয়ন্ত্রণ করতে পারবেন? কীসের ওপর আপনার নিয়ন্ত্রণ নেই?
 লক্ষ্য অর্জনের মাইলস্টোনগুলো কী কী? অর্থাৎ কোন কোন জিনিস দেখলে বা ঘটলে আপনি বুঝতে পারবেন আপনি আপনার লক্ষ্য অর্জনের পথেই আছেন? (মাইলস্টোন যেমন এক মাইল পর পর থাকে। এতে করে আপনি বুঝতে পারেন যে আপনি ৫০ মাইল দূরে যাবেন। এখন ১ মাইল পার করেছেন। আর ৪৯ মাইল বাকি আছে। এমন কী জিনিস বা অবস্থা দেখলে বা ঘটলে আপনি বুঝতে পারবেন আপনি আপনার লক্ষ্য অর্জনের পথেই আছেন?)
 লক্ষ্য অর্জনে আর কে কে যুক্ত? তারা লক্ষ্য অর্জনে কী কী প্রভাব ফেলতে পারে?
 আপনি এখন পর্যন্ত কী করেছেন? এর ফলাফল কী হয়েছে?
 আপনি লক্ষ্য অর্জন করতে গিয়ে যেসব বাধার সম্মুখীন হচ্ছেন সেগুলো কী?

সুযোগ-সুবিধা
মেনটর এখানে শিক্ষার্থীকে বিভিন্ন ধরনের বুদ্ধি, কলাকৌশল, সুযোগ-সুবিধা এবং কর্মপরিকল্পনা খুঁজে পেতে সহায়তা করবে। এতে করে শিক্ষার্থী তার অবস্থায় থেকেও নতুন নতুন পরিস্থিতি আবিষ্কার করবে। এ আলোচনা থেকে যেসব বুদ্ধি, ধারণা ও আইডিয়া পাওয়া যাবে তা শিক্ষার্থীকে বর্তমান অবস্থায় নতুন এক দৃষ্টিভঙ্গি নিয়ে কাজ করে যাওয়ার প্রেরণা দিবে। এসব বুদ্ধি থেকে যদি উৎপাদনমুখী বা কাজে লাগবে এমন কিছু পাওয়া যায় তবে খুবই ভালো হয়। এ আলোচনার লক্ষ্য হচ্ছে শিক্ষার্থীকে সহায়তা করা। শিক্ষার্থীকে কেবল কাঠামো ধরিয়ে দেওয়া নয়; বরং শিক্ষার্থী যেন নিজে থেকেই একটি কর্মপরিকল্পনা খুঁজে পায়।
প্রশ্ন হতে পারে:

 আপনার কাছে এখন কী কী সুযোগ আছে? আপনার পছন্দের সুযোগ কোনটি? কেন আপনি এ সুযোগকে পছন্দ করেন?
 আপনার কাছে যদি টাকাপয়সার কোনো অভাব না থাকত এবং কাজ করতে গিয়ে আর যা যা দরকার তার সবকিছু থাকত, তবে আপনার সামনে কী কী সুযোগ থাকত?
 আপনি কি আপনার লক্ষ্যকে কোম্পানি বা প্রতিষ্ঠানের অন্যান্য সমস্যার সাথে সম্পৃক্ত করতে পারেন?
 এ সমস্যার ভালো একটি সমাধান কী হতে পারে?

সামনে এগিয়ে যাওয়ার উপায়
লক্ষ্য পূরণের জন্য তড়িঘড়ি করবেন না। এখানে লক্ষ্য হচ্ছে কী কী কাজ সম্পন্ন হওয়া দরকার তা খুঁজে বের করা এবং সম্পন্ন করা। এতে করে শিক্ষার্থী একটি বাস্তবভিত্তিক কর্মপরিকল্পনা তৈরি করতে সক্ষম হবে। সে তার নিজের অবস্থা ও সুবিধা বিবেচনা করে একটি কর্মপরিকল্পনা তৈরি করবে। মেনটর এখানে দূর থেকে দেখবে, শিক্ষার্থীর শক্তিশালী দিকগুলো দেখিয়ে দিবে এবং দুর্বলতা সম্পর্কে সতর্ক করবে। মেনটর শিক্ষার্থীকে নতুন নতুন বুদ্ধি পরামর্শ দিবেন এবং নতুন নতুন দৃষ্টিভঙ্গিতে দেখার সুযোগ করে দিবেন।
প্রশ্ন হতে পারে:

 আপনি এখন কী করতে যাচ্ছেন? কখন থেকে কাজ আরম্ভ করবেন? কাকে কাকে জানানোর দরকার? আপনার কাজের জন্য কী কী প্রয়োজনীয় উপকরণ দরকার? কার কার সহায়তা দরকার?
 আপনি কীভাবে বাধাবিপত্তি অতিক্রম করবেন এবং সাফল্য নিশ্চিত করবেন?

অবশেষে, সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কাজ হচ্ছে প্রতি সপ্তাহে পুনর্নিরীক্ষণ করা এবং কতদূর কাজ সম্পন্ন হল তা নির্ণয় করা। এতে করে অগ্রগতি সম্পর্কে নিশ্চিত হবেন এবং আপনি আরও সাহস ও প্রেরণা পাবেন।

আরও জানতে কমেন্ট করুন। আপনার মতামত জানাতে পারেন। অথবা আমার সাথে আলাপ করতে পারেন। তবে অবশ্যই আগে পুরো লেখা পড়ে নিবেন এবং কাগজে-কলমে নিজের পরিকল্পনা লিখে নিবেন। তারপরই আমরা আলাপ করতে পারব। ধন্যবাদ। ভালো থাকবেন। আমার জন্য দোয়া করবেন। আল্লাহ হাফেজ।

Leave a Reply