শেষে থাকলে যে সুবিধা

এখন আপনি নিশ্চয় প্রতিযোগিতা থেকে যতটা সম্ভব দূরে থাকতে চান। বেশ ভালো। এতে করে আপনি একচেটিয়া ব্যবসা করতে পারবেন। ছোট ছোট ক্ষেত্রে অনেকে একচেটিয়া ব্যবসাও করতে পারে। কিন্তু একচেটিয়া ব্যবসাও একটি বিশাল বড় কোম্পানিতে পরিণত হতে পারে যদি এটা ভবিষ্যতেও টিকে থাকার চিন্তা করে। আমি এখানে নিউইয়র্ক টাইমস (New York Times) কোম্পানি ও টুইটারকে (Twitter) তুলনা করছি। প্রত্যেক প্রতিষ্ঠানই কয়েক হাজার লোকজনকে কাজ দিচ্ছে এবং লাখো লোকজনকে সংবাদ পাওয়ার একটি মাধ্যম হিসেবে কাজ করছে। কিন্তু টুইটার যখন ২০১৩ সালে শেয়ার বাজারে এলো তখন এর মূল্য ধরা হয় ১ লাখ ৯২ হাজার কোটি টাকা (ডলার প্রতি ৳৮০ ধরে)। টাইমসের বাজার মূল্যের ১২ গুণ বেশি। যদিও টাইমস এর আগের বছর ২০১২ সালে ১ হাজার চৌষট্টি কোটি টাকা আয় করে এবং টুইটার কিছু আর্থিক ক্ষতির সম্মুখীন হয়। তারপরেও পরের বছর টুইটারের শেয়ার বাজার মূল্য কত বিশাল!

এর কারণ হচ্ছে ক্যাশ ফ্লো। প্রথমে শুনলে হয়তো অদ্ভুত লাগবে যে, টাইমস তখন লাভজনক প্রতিষ্ঠান ছিল, কিন্তু টুইটার ততটা ছিল না। তারপরেও টুইটারের মূল্য অনেক বেশি। তার কারণ একটি কোম্পানি তখনই বিশাল বড় প্রতিষ্ঠানে পরিণত হয় যখন এর ভবিষ্যৎ মূল্য বেশি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। বিনিয়োগকারীরা দেখলেন টুইটার আগামী দশকে পুরোপুরি একচেটিয়া ব্যবসা করবে, যেখানে সংবাদপত্রের দিন শেষ হয়ে আসছে।

সোজা কথায় বললে, একটি ব্যবসার বর্তমান মূল্য হচ্ছে যা কিছু ভবিষ্যতে আয় করবে। আপনি যদি একটি ব্যবসার মূল্য নির্ধারণ করতে চান তবে ব্যবসার ভবিষ্যৎ চিন্তা করুন। কারণ আজকে ১ কোটি টাকার যে মূল্য তা ভবিষ্যতের ১ কোটি টাকার চেয়ে বেশি মূল্যবান। কারণ আজকের ১ কোটি টাকার বিনিয়োগ, যত সময় গড়াবে তত বেশি এর মূল্য বাড়বে।

নিম্ন মানের উদ্যোগ আর উচ্চ মানের উদ্যোগের মধ্যে তফাত করে দেয় এই ভবিষ্যৎ মূল্য— ভবিষ্যতে একটি কোম্পানি কতটা আয় করবে। বেশিরভাগ নিম্ন মানের উদ্যোগে চিন্তা করা হয় অল্প সময়ের মধ্যে কতটা আয় করে নেওয়া যায়। ধরুন সংবাদপত্রের মতো একটি ব্যবসায়িক কোম্পানি, যাকে আমরা পুরাতন অর্থনীতির একটি ব্যবসা বলে সংজ্ঞায়িত করি, তা বেশি হলে পাঁচ-ছয় বছর লাভজনক হিসেবে থাকবে। যদি এটা তার ধারাবাহিকতা ধরে রাখতে পারে তো। এসব ক্ষেত্রে যেকোনো সময় নতুন কোন প্রতিযোগী এসে তার মুনাফা থেকে ভাগ নিতে পারে। আরও ভালো উদাহরণ হচ্ছে নাইটক্লাব বা রেস্তোরাঁগুলো। এগুলোতে হয়তো আপনি একরাতে অনেক টাকা মুনাফা করতে পারেন। কিন্তু আগামীদিন মুনাফা করবেন এ কথা জোর দিয়ে বলা যায় না। কারণ সামনে এমন একদিন আসবে যখন গ্রাহকরা অন্য কোন নতুন রেস্তোরাঁ বা ক্লাবে সময় কাটাবে।

কিন্তু প্রযুক্তিগত কোম্পানিগুলোর চিত্র এর ঠিক বিপরীত। প্রায়ই দেখা যায় প্রযুক্তিগত একটি কোম্পানি প্রথম কিছু বছর কেবল লস দিয়ে যায়। মূল্যবান জিনিস তৈরি করতে সময় লাগে। এর মানে হচ্ছে মুনাফা আসতে দেরি আছে। এজন্য বেশিরভাগ প্রযুক্তিগত কোম্পানিগুলোর মূল্য বোঝা যায় কমপক্ষে ১০-১৫ বছর পরে। বিস্তারিত পড়ুন জিরো টু ওয়ান বই। এখনই জিরো টু ওয়ান বই ক্রয় করুন। বই ক্রয় করতে বাটনের ওপর ক্লিক করুন।

পরবর্তী রচনার লিংক:

স্বপ্নের সূচনা

ধনী হওয়ার ব্যবসায়িক মডেল

নতুন চিন্তার উদ্যোগ

ব্যবসায়িক মডেলের চার নীতি

যেকোনো সফল প্রতিষ্ঠানই আলাদা

প্রতিযোগিতার মূলনীতি

শেষে থাকলে যে সুবিধা

Leave a Reply