ব্যবসায়িক মডেলের চার নীতি

ব্যবসায়িক মডেলের চার নীতি

১. ক্রমবর্ধমান উন্নতি ঘটাতে হবে
অতিমাত্রার স্বপ্ন আসলে বুদবুদ তৈরি করে। যা কোনোমতেই প্রশ্রয় দেওয়া যাবে না। কেউ যদি বলে আমি অনেক বড় কিছু করে ফেলব, তবে তা সন্দেহের চোখে দেখতে হবে। আর কেউ যদি বলে আমি গোটা দুনিয়োকেই বদলে দিব, তবে তাকে আরও বিনয়ী হতে হবে। সামনে এগিয়ে যাওয়ার একমাত্র নিরাপদ পথ হচ্ছে ছোট ছোট পা ফেলা এবং প্রতিনিয়ত পথচলা।

 

২. প্রথমে একটু নমনীয় হোন, দরকার হলে লাভহীন থাকুন
প্রতিটি কোম্পানিকেই প্রথমে একটু জাঁকজমকহীন, চর্বিহীন মানে সাধারণ অবস্থায় থাকতে হবে। অতিরিক্ত কিছু করা যাবে না। আর যেকোনো সময় অপরিকল্পিত ঘটনার জন্য প্রস্তুত থাকতে হবে। আপনি কখনো জানেন না সামনে আপনার ব্যবসা বা উদ্যোগ আপনার জন্য কী নিয়ে আসবে। তাই পরিকল্পনা করুন, কিন্তু পরিকল্পনা মতোই যে সব হবে এমন নিশ্চয়তা নেই। পরিকল্পনাকে নমনীয় পর্যায়ে রাখুন। একই জিনিস বারবার করার চেয়ে নতুন কিছুর উদ্যোগ নিন। আপনি জানেন না এমন কিছু নিয়ে পরীক্ষা-নিরীক্ষা চালান।

 

৩. বাজারের প্রতিযোগিতাকে উন্নত করুন
ধরেই নতুন বাজার সৃষ্টির চেষ্টা করবেন না। একে অকালপক্ব আচরণ বলে। সত্যিকারের ব্যবসা বলতে বোঝায় যেই ধরনের পণ্যের গ্রাহক আছে। আপনাকে কেবল বিদ্যমান গ্রাহকদের আরও ভালো পণ্য দিতে হবে।

 

৪. পণ্যের ওপর মনোযোগ দিন, বিক্রয়ের ওপর নয়
যদি আপনার পণ্য বিক্রয়ের জন্য বিজ্ঞাপন বা বিক্রয়কর্মী দরকার হয়, তবে বুঝতে হবে এটা খুব ভালো একটা পণ্য নয়। প্রথমত, প্রযুক্তি মানে হচ্ছে পণ্যকে উন্নত করা; নাকি বিতরণ করা। বিজ্ঞাপনের পাহাড় তৈরি করে কোনো লাভ নেই। এ কেবল অপচয়। এজন্য কেবল টেকসই উন্নয়ন, ধীরে ধীরে প্রতিনিয়ত উন্নতি করে যাওয়াই হচ্ছে আসল অগ্রগতি।

উদ্যোক্তা বিশ্বে এই সূত্রগুলোই মূল নীতিতে পরিণত হয়েছে। আর যারা এগুলোকে মানতে অবহেলা করে তারা ২০০০ সালের মতো বিপর্যয় ডেকে আনে। তারপরেও এর বিপরীত নীতিগুলো হয়তো আরও বেশি টেকসই :
১. তুচ্ছ কাজ করার চেয়ে সাহসের সাথে ঝুঁকি নেওয়া ভালো।
২. কোন পরিকল্পনা না থাকার চেয়ে একটি খারাপ পরিকল্পনা থাকাও ভালো।
৩. প্রতিযোগিতামূলক বাজার মূলত মুনাফা নষ্ট করে।
৪. পণ্যের মান যতটা গুরুত্ব রাখে, বিক্রয়ও ঠিক ততটাই গুরুত্বপূর্ণ।

একথা সত্য যে, প্রযুক্তির যুগে একটি বুদবুদ ছিল, সেখানে অতি উচ্ছ্বাস বিদ্যমান ছিল। নব্বই দশকের সেই সময় ছিল ঔদ্ধত্যপূর্ণ। তখন লোকজন বিশ্বাস করতো ০ থেকে ১ এ তারা যেতে পারবে। অনেকেই সেই শিখরে পৌঁছাতে পারেনি যার কথা তারা বলতো। খুব কম কোম্পানিই শিকড় থেকে শিখরে পৌঁছেছে। আসলে ব্যাপারটি ছিল লোকজন বুঝতে পেরেছিল আমাদের আর কোন পথ নেই, আমাদেরকে এমন সব পথ সৃষ্টি করতে হবে যা পূর্বের তুলনায় আনকোরা। কারণ আমাদের সম্পদ কম। কম সম্পদ দিয়ে বেশি কাজ করতে হবে। এটা লোকজন ঠিকই বুঝেছিল। যদিও ২০০০ সালের মার্চ মাসের শেয়ার বাজারের যে সর্বোচ্চ সূচক সেটা আসলে উন্মত্ততা ছাড়া আর কিছুই নয়। তবে এরচেয়েও গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো লোকজনের স্পষ্ট দূরদৃষ্টি ছিল। লোকজন দূর ভবিষ্যতের দিকে দৃষ্টি মেলে ধরে, তারা দেখতে পায় যে, ভবিষ্যতে তাদের নতুন নতুন প্রযুক্তি দরকার এবং আজকের এই পদক্ষেপই তাদেরকে সেখানে নিরাপদে পৌঁছে দিবে।

এখনও আমাদের কিছু টাটকা, সম্পূর্ণ নতুন কিছু প্রযুক্তি দরকার। হয়তো ১৯৯৯ সালের মতো কিছু ঔদ্ধত্য ও উদ্দীপনা দরকার তা পাওয়ার জন্য। আমরা যদি আমাদের পরবর্তী প্রজন্মের কোম্পানিগুলোকে সৃষ্টি করতে চাই তবে ব্যবসায়িক বিপর্যয় বা শেয়ার বাজার ধসের পর যে তত্ত্বগুলো আমরা শিখেছি সেগুলোকে পরিত্যাগ করতে হবে। তার মানে এই নয় যে তত্ত্বগুলোর বিপরীত তত্ত্বই ঠিক। আসলে মূল জিনিসটি খুঁজে দেখতে হবে। ভয় পেয়ে কেবল এক তত্ত্বে আটকে থাকা যাবে না। আবার আপনি যে বিপরীত পথে হাঁটলেই জানতার ভিড় থেকে বেঁচে যাবেন তা-ও নয়। এর পরিবর্তে আপনি নিজেকে জিজ্ঞেস করুন : গণমানুষের একটি ভুল প্রতিক্রিয়ার ফলে ব্যবসায়িক জগতের গতি কীভাবে পরিবর্তন হলো? একই প্রশ্ন একটু ভিন্নভাবে যদি বলি : কীভাবে গণমানুষের অতীতের কোনো একটি ভুল প্রতিক্রিয়ার ফলে আজকে ব্যবসায়িক জগতের গতি পরিবর্তন হচ্ছে? সবচেয়ে বৈপরীত্যমূলক জিনিস হচ্ছে ভিড়ের বিরোধিতা করা নয়; বরং নিজের জন্য চিন্তা করা। এজন্য পড়ুন জিরো টু ওয়ান বই। এখনই জিরো টু ওয়ান বই ক্রয় করুন। বই ক্রয় করতে বাটনের ওপর ক্লিক করুন।

পরবর্তী রচনার লিংক:

স্বপ্নের সূচনা

ধনী হওয়ার ব্যবসায়িক মডেল

নতুন চিন্তার উদ্যোগ

ব্যবসায়িক মডেলের চার নীতি

যেকোনো সফল প্রতিষ্ঠানই আলাদা

প্রতিযোগিতার মূলনীতি

শেষে থাকলে যে সুবিধা

Leave a Reply