কীভাবে সবকিছু সঠিকভাবে চিন্তা করবেন?

সঠিকভাবে চিন্তা করতে ছয় ধাপের এক পদ্ধতি অনুসরণ করতে পারেন।

১। পর্যবেক্ষণ করার অভ্যাস গড়ে তুলুন

২। যেকোন ধরনের গড়পড়তা মতামত দেয়ার আগে একটু যাচাই-বাছাই করে নিন

৩। কুসংস্কার পরিহার করুন

৪। আবেগের ওপর নিয়ন্ত্রণ রাখুন

৫। ফলাফলের দিকে নজর দেয়ার অভ্যাগ গড়ে তুলুন

৬। ভালো ও ইতিবাচক মনোভাব সম্পন্ন মানুষের সাথে যোগাযোগ বাড়ান

প্রায়ই দেখা যায় আমরা ভুলভাবে চিন্তা করতে অভ্যস্ত হয়ে পড়ি। এতে করে আমাদের মধ্যে দ্বিধাদ্বন্দ্ব বৃদ্ধি পায়, সংশয় ও অস্থিরতা তৈরি হয়। আমরা এর থেকে বের হওয়ার উপায় খুঁজি কিন্তু সমাধান খুঁজে পাই না। এজন্য আমাদের দরকার সবকিছু সঠিকভাবে চিন্তা করার এক পদ্ধতি। এখানে ছয় ধাপের এক পদ্ধতির কথা উল্লেখ করা হলো। আশা করি, এতে আপনি মানসিকভাবে স্বস্তি পাবেন। আর কোন প্রশ্ন থাকলে কমেন্ট বা ইমেইলে নিশ্চয় জানাবেন। এখন কিছুটা বিস্তারিত জানানো হচ্ছে:

১। পর্যবেক্ষণ করার অভ্যাস গড়ে তুলুন: অনেক সময় দেখা যায় আমরা আংশিক তথ্য থেকেই সিদ্ধান্ত নিয়ে নেই। এ কাজ করা ঠিক নয়। কারণ অপর্যাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে সিদ্ধান্ত নিলে তা ব্যর্থ আনে। যেমন, আমরা এক বন্ধু আমাকে আনুমানিকভাবে বলেছিল, পেপারব্যাক বইয়ের কাভারে খরচ হবে ১৮ টাকা। আমিও আর বাঁধাইওয়ালাকে জিজ্ঞেস করিনি পেপারব্যাক বইয়ের খরচ কত। এরপর আমি বই ছাপালাম ৫ হাজার কপি। তারপর বাঁধাইওয়ালা এসে বিল করল বই প্রতি ৫৪ টাকা করে। আমার তো মাথায় হাত। বন্ধুকে জিজ্ঞেস করলাম। সে বলল এত হবে তা তো বুঝতে পারিনি। অথচ আমার তিনগুণ বেশি খরচ দিতে হলো। তাই এভাবে অনুমানের ভিত্তিতে সিদ্ধান্ত নিবেন না।

২। যেকোন ধরনের গড়পড়তা মতামত দেয়ার আগে একটু যাচাই-বাছাই করে নিন: সাধারণত আমরা গড়পড়তা মতামত দিতে অভ্যস্ত। সবকিছুর একটা সাধারণ জবাব আমাদের কাছে আগে থেকেই জমা থাকে। এরকমভাবে যেকোন ধরনের গড়পড়তা মতামত দেয়ার আগে একটু যাচাই-বাছাই করে নিন।

৩। কুসংস্কার পরিহার করুন: আমরা আমাদের চিন্তা ও আমাদের পরিবেশের দ্বারা বেড়ে উঠি। হয়তো আমাদের পরিবেশের মধ্যেই নানা ধরনের কুসংস্কার বিদ্যমান। এসব কুসংস্কার কিন্তু আমাদের চিন্তাকে প্রভাবিত করে। তাই আমাদের উচিত বৈজ্ঞানিক ও পরীক্ষিত পদ্ধতিতে চিন্তা করা। আমাদের উচিত আমাদের যৌক্তিক অংশকে ব্যবহার করা। আমাদের মধ্যে যৌক্তিকভাবে চিন্তাভাবনা করার উপাদান আগে থেকে রয়েছে। আমাদের কেবল এগুলোর চর্চা ও অনুশীলন করতে হবে।

৪। আবেগের ওপর নিয়ন্ত্রণ রাখুন: আমরা আমাদের চিন্তাভাবনার ওপর নিয়ন্ত্রণ রাখতে পারব না যদি আমরা আমাদের আবেগের ওপর নিয়ন্ত্রণ রাখতে না পারি। তাই আমাদের আবেগের ওপর আমাদেরকে নিয়ন্ত্রণ রাখতে হবে। আমরা আবেগকে নিয়ন্ত্রণ করতে পারি আমাদের যুক্তিযুক্ত চিন্তাভাবনার মাধ্যমে।

৫। ফলাফলের দিকে নজর দেয়ার অভ্যাগ গড়ে তুলুন: মানুষের উচিত বাস্তবতার ভিত্তিতে চিন্তাভাবনা করা। বাস্তবতাকে মেনে নেওয়া। বাস্তবতাকে মেনে নিলেই আপনি এটা থেকে শিখতে পারবেন। একই ভুল বারবার করবেন না। তখন আপনি সঠিকভাবে চিন্তা করতে পারবেন। নইলে আমরা নিজেরাই নিজেদের ধোঁকা দিব। আমাদেরকে অবশ্যই সমস্যার মুখোমুখি হওয়ার অভ্যাস গড়ে তুলতে হবে, নাকি সমস্যা থেকে পালিয়ে বেড়াব। আপনি যেরকম চান, সেরকম চিন্তা না করে, বাস্তবতা বা সমস্যার প্রকৃত অবস্থাকে দেখুন, মেনে নিন, তারপর তা মোকাবিলা করার চেষ্টা করুন।

৬। ভালো ও ইতিবাচক মনোভাব সম্পন্ন মানুষের সাথে যোগাযোগ বাড়ান: যারা আপনাকে একটি যথাযথ পন্থায় এগিয়ে যেতে সাহায্য করবে এমন মানুষদের সাথে চলুন। তাদের সাহায্য নিন। তাদের সাথে দেখাসাক্ষাৎ করুন, কথা বলুন।তথ্যসূত্র: https://www.psychologydiscussion.net/thinking/6-methods-which-can-lead-to-correct-way-of-thinking/592

Leave a Reply