অন্যের টাকা কীভাবে ব্যবহার করব?

 এস.বি. ফুলারের একটি ঘটনা বলি। এতে করে আপনি হয়তো বুঝতে পারবেন যে এটা কীভাবে কাজ করে।

‘আমরা গরিব তার কারণ আল্লাহ নয়।’ লুইসিয়ানা রাজ্যে বহু দরিদ্র কৃষক পরিবার বাস করত। তাদের অনেক ছেলেমেয়ে ছিল। এস.বি. ফুলার ছিল এমনই এক দরিদ্র কৃষক পরিবারের সপ্তম সন্তান। সে ৫ বছর বয়স থেকে ক্ষেতে কাজ করা শুরু করে। ৯ বছর বয়স থেকে সে গরু চরাতে পারত। এই কৃষক পরিবারগুলোতে কোন ভিন্নতা ছিল না। তারা খুব সকালে উঠে কাজ করত এবং রাতে খুব দ্রুত খাবার খেয়ে ঘুমাত। এই পরিবারগুলো দরিদ্রতাকে এক রকম মেনেই নিয়েছে। গরিব থাকাকে তারা তাদের ভাগ্য মনে করে। তারা জীবনে উন্নতির জন্য কোন রকম চেষ্টাই করে না।

তবে তরুণ ফুলার তার বন্ধুদের কাছ থেকে একদিক থেকে ভিন্ন ছিল: তার মা ছিল একজন অসামান্য নারী। তার মা তাদের এই দিন-আনে-দিন-খায় পরিস্থিতিকে মেনে নিত না। সে জানত যে কিছু একটা সমস্যা আছে। সে তার সন্তানদের বড় স্বপ্ন দেখতে বলত। তার নিজের বড় বড় স্বপ্ন সন্তানদের কাছে বর্ণনা করত।

এস.বি. ফুলার তার মায়ের কথাগুলো স্মৃতিচারণ করতে গিয়ে বলে, ‘আমরা গরিব থাকব না। আর কখনোই এটা বলবে না যে আল্লাহ চায় তাই আমরা গরিব। আমরা গরিব তার কারণ আল্লাহ নয়। আমরা গরিব তার কারণ তোমার বাবা কখনো ধনী হওয়ার ইচ্ছা পোষণ করেনি। এমনকি আমাদের বংশের মধ্যেও কেউ কখনোই ধনী হওয়ার আকাঙ্ক্ষা পোষণ করেনি।’

কেউ সম্পদশালী হওয়ার একটি আকাঙ্ক্ষাই পোষণ করেনি। এই কথাটা ফুলারের মনে এত গভীরভাবে আটকে গেল যে এটা তার পরবর্তী জীবনকে বদলে দিয়েছে। সে নিজেকে বলল, ‘আমি ধনী হতে চাই।’ সে নিজের মনে কেবল সেই চিন্তাগুলোকেই জায়গা দিত যেগুলো সে চায়, বাকি সবকিছু যা সে চাইত না, সেগুলো নিয়ে চিন্তাই করত না। এভাবে সে ধনী হওয়ার প্রতি একটি তীব্র আকাঙ্ক্ষা গঠন করে। সে চিন্তা করল, সবচেয়ে দ্রুত টাকা রোজগারের পথ হচ্ছে কিছু বিক্রি করা। সে সাবান নির্বাচন করল। সে দীর্ঘ ১২ বছর যাবৎ সাবান বিক্রয় করল। একদম বাড়ির দরজায়-দরজায় গিয়ে। তারপর একদিন জানতে পারল সে যেই কোম্পানিতে কাজ করত সেই সাবান কোম্পানি বিক্রি হবে। দাম ১৫ লাখ টাকা।

ফুলার গত ১২ বছর যাবৎ চাকরি করে, এক পয়সা-পয়সা করে যোগাড় করেছে কেবল ৫০ হাজার টাকা। সে সাবান কোম্পানির মালিকের সাথে একটি চুক্তি স্বাক্ষর করল। সে অগ্রিম ৫০ হাজার টাকা দিল। আর ফুলারকে বাকি টাকা পরিশোধের জন্য ১০ দিন সময় দেওয়া হয়। চুক্তিতে আরও ছিল যে এই ১০ দিনের মধ্যে যদি জনাব ফুলার বাকি টাকা দিতে ব্যর্থ হয় তবে সে অগ্রিম টাকা হারাবে।

দীর্ঘ ১২ বছরের চাকরিতে, ফুলার অনেক ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে সম্মান এবং শ্রদ্ধা অর্জন করেছে। আজকে সে তাদের সবার কাছে গেল। তার ঘনিষ্ঠ বন্ধুদের কাছে টাকা চাইল। সে লোনের জন্য কিছু ব্যাংক এবং আর্থিক প্রতিষ্ঠানের কাছেও গেল। দশম দিনের সন্ধ্যাবেলা পর্যন্ত সে সবকিছু মিলিয়ে ১৩ লাখ ৫০ হাজার টাকা যোগাড় করল। এখন বাকি ১ লাখ টাকা।

আলোর খোঁজে। এমন কোন জায়গা নেই যেখানে আমি খুঁজিনি। আমি সব জায়গায় সন্ধান করতে করতে ক্লান্ত হয়ে গিয়েছিলাম। সেই সন্ধ্যায় আমি আমার ঘরে অন্ধকারে বসেছিলাম। আমি হাঁটু গেড়ে বসলাম। আমি প্রার্থনা করলাম যাতে আল্লাহ আমাকে সেই ব্যক্তির সন্ধান দেয় যে আমাকে ১ লাখ টাকা দিবে। আমি নিজেকে বললাম, ‘আমি পাব, আমি পাব। আমি প্রার্থনা করলাম যাতে আল্লাহ আমাকে আলো দেখায়।’

এস.বি. ফুলারের টাকা পরিশোধের সময় ছিল রাত আটটা। এর মধ্যেই টাকা পরিশোধ করতে হবে। ‘তখন বাজে রাত ৭টা। আমি শিকাগোর রাস্তা দিয়ে হেঁটে আমার সাবান কোম্পানির দিকে যাচ্ছিলাম। একটু দূরে, দেখলাম এক ঠিকাদারের অফিসে বাতি জ্বলছে।’

‘আমার কেন যেন মনে হলো সেই অফিসে আমার যাওয়া উচিত। আমি অফিসের ভেতর গেলাম। দেখলাম এক লোক ক্লান্ত হয়ে চেয়ারে বসে আছে। সেই ঠিকাদার আমাকে আগে থেকেই চিনত। আমিও তাকে চিনতাম। তবে বেশি পরিচিত নয়। আমি বুঝতে পারলাম যে আমাকে সাহস করে আমার কথা বলতে হবে।’

ফুলার সরাসরি জিজ্ঞেস করলেন, ‘আপনি কি ১০ হাজার টাকা আয় করতে চান?’ ঠিকাদার জবাব দিল, ‘হ্যাঁ, অবশ্যই।’

‘তাহলে ১ লাখ টাকার একটি চেক কেটে দিন। আর আমি যখন আপনাকে টাকাটা ফেরত দিব তখন ১০ হাজার টাকা মুনাফাসহ ফেরত দিব।’

তারপর ফুলার তার পুরো ব্যবসায়িক উদ্যোগ সম্পর্কে তাকে বিস্তারিত বলল। আর কে কে ফুলারকে অর্থ ধার দিয়েছে সেগুলোও জানাল। 

চলুন তার সাফল্যের রহস্য উদ্ঘাটন করি। ফুলার সেই রাতেই ১ লাখ টাকা যোগাড় করে। তার পকেটে ছিল সেই ঠিকাদারের ১ লাখ টাকার চেক। পর্যায়ক্রমে ফুলার কেবল সেই সাবান কোম্পানিরই নয়; বরং আরও ৭টি কোম্পানির স্বত্বাধিকারী হয়। এগুলোর মধ্যে ছিল ৪টি কসমেটিক কোম্পানি, একটি হোউজিআর কোম্পানি (মোজা এবং অন্তর্বাসের ব্যবসা), একটি লেভেল কোম্পানি এবং একটি সংবাদপত্র। কিছুদিন আগে আমরা তাকে জিজ্ঞেস করেছিলাম যে তার সাফল্যের রহস্য কী। উত্তরে সে তার মায়ের সেই বহু বছর আগের কথা উদ্বৃত করে।

‘আমরা গরিব তার কারণ আল্লাহ নয়। আমরা গরিব তার কারণ তোমার বাবা কখনো ধনী হওয়ার ইচ্ছা পোষণ করেনি। এমনকি আমাদের বংশের মধ্যে কেউ কখনোই ধনী হওয়ার আকাঙ্ক্ষা পোষণ করেনি।’

Leave a Reply